ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ট্রাপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব - ডিইউইডিসির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো উদ্যোক্তাদের জন্য আয়োজিত হয়েছে ৮ দিনব্যাপী ধারাবাহিক অনলাইন ওয়ার্কশপ। । আর তারই ধারাবাহিকতায় এবার তারা আয়োজন করেছে “ডিইউইডিসি-ব্র্যাক ব্যাংক প্রেজেন্টস শাট আপ এন্ড স্টার্ট আপ” নামক ইভেন্ট। যেখানে অনুষ্ঠিত হয় মোট ৮ টি ওয়ার্কশপ, ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৪-শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ওয়ার্কশপই রাত ৮ টায় শুরু হয়ে প্রায় দেড়-দু ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। সফল উদ্যোক্তা হবার জন্য সবচেয়ে জরুরি যে বিষয়গুলো একজন ব্যক্তির জানা দরকার, তেমনই ৮ টি বিষয়ের উপর আয়োজিত ওয়ার্কশপগুলোতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিদিনের সেশনের শেষভাগে ছিল প্রশ্নোত্তর । প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোগমূখী করতে ও এ সম্পর্কিত সার্বিক সহায়তা প্রদানে ক্লাবটি সুনামের সাথে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ।
পর্ব। সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্লাব মডারেটর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ এর সাথে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবসায় শিক্ষা অনুষদের সম্মানিত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল মঈন ও ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, হেড অব এসএমই ব্যাংকিং, সৈয়দ আবদুল মোমেন।
পুরো ইভেন্ট জুড়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের নানান স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী বিভিন্ন পেশার প্রায় কয়েকশো মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়। ইভেন্টটির সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন ক্লাবটির মডারেটর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর, ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি, তিনি ইভেন্টের দুইটি ওয়ার্কশপে স্বয়ং ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
প্রথমদিনের ওয়ার্কশপে ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ “ব্যবসায় আইডিয়া ও আইডিয়া ভ্যালিডেশন” বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেন। এখানে প্রশিক্ষণার্থীরা উদ্যোগের জন্য আইডিয়া নির্বাচন থেকে শুরু করে সে আইডিয়ার বাস্তবায়নযোগ্যতা নির্ণয়সহ যাবতীয় বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন।
পরবর্তী দিন প্রশিক্ষণার্থীরা শেখেন “টিম বিল্ডিং” সম্বন্ধে এবং ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ছিলেন FutureLeaders এর CEO , কাজী এম আহমেদ । তাদেরকে জানানো হয়, যেকোনো উদ্যোগ সফল করতে কেন সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রয়োজন এবং কি কি বিষয়ে দক্ষ সহপ্রতিষ্ঠাতারা একত্রিত হলে সফলতা অর্জন হয়ে উঠে সহজ।
ইভেন্টের তৃতীয় দিনে “স্টোরিটেলিং এবং পিচিং” বিষয়ে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। যেকোনো উদ্যোগকে কোথাও তুলে ধরার জন্য ও নিজের পরিকল্পনা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই বিষয়টির গুরুত্ব ও কৌশল সম্বন্ধে আলোচনা করেন অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পরিচালক ও সিইও, ইকবাল বাহার জাহিদ।
যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সদস্যদের মাঝে পার্টনারশীপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোগকে সফল করে তুলতে একজন স্কিলফুল পার্টনারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আর তাই এই “পার্টনারশীপ বিল্ডিং” নিয়েই আয়োজিত হয় শাট আপ এন্ড স্টার্ট আপের চতুর্থ ওয়ার্কশপ, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের একমাত্র ওবামা স্কলার এবং YY Ventures এর প্রতিষ্ঠাতা সজিব এম খায়রুল ইসলাম।
প্রচারেই প্রসার নীতিকে অগ্রাহ্য করে আজ অবধি সফল হতে পারেনি কোনো উদ্যোগই। তাই ডিইউইডিসির প্রশিক্ষণার্থীদেরকে “মার্কেটিং এবং ব্র্যান্ডিং” বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পঞ্চম দিনের ওয়ার্কশপটি নেন দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকার হেড অফ মার্কেটিং, তাজদিন হাসান।
যেকোনো উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক- “কাস্টমার ডেভেলপমেন্ট ও এমভিপি” বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ইভেন্টের ষষ্ঠ ওয়ার্কশপটি নেন আয়োজক ক্লাবের মডারেটর ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ। ক্রেতা বান্ধব ব্যবসায়িক পন্থা নির্বাচনের পাশাপাশি যেকোনো প্রোডাক্টকে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ক্রমাগত উন্নয়নের মাধ্যমে মার্কেট উপযোগী করে তোলার খুঁটিনাটি নিয়ে এদিন আলোচনা হয়।
ইভেন্টের সপ্তম ওয়ার্কশপটি হয় “ফান্ডরেইজিং” বিষয়ে। লালিত স্বপ্ন, বহু আকাঙ্ক্ষিত উদ্যোগের উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কিভাবে পাওয়া যেতে পারে তার বিভিন্ন কার্যকর উপায় সম্বন্ধে আলোচনা করেন Bangladesh Investment Development Authority ( BIDA) এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর , আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান ।
উদ্যোক্তাদেরকে তাদের প্রতিষ্ঠানের আইনি দিকগুলো সম্বন্ধে সার্বিক ধারণা দিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। “লিগ্যাল ইস্যুজ” বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয় ইভেন্টের সর্বশেষ, অর্থাৎ অষ্টম ওয়ার্কশপটি। এদিন প্রশিক্ষণার্থীরা ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক একাউন্ট, টিন আইডি, ট্যাক্স, ভ্যাটের নিয়মাবলীসহ তাদের উদ্যোগকে রাষ্ট্রস্বীকৃত উপায়ে নিবন্ধিত করার আগাগোড়া সকল আইনি খুঁটিনাটি সম্বন্ধে অবগত হন।
আট দিনব্যাপী এই অনলাইন ওয়ার্কশপটি ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হলেও, এতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত এই আয়োজনের প্রতিটি দিনেই প্রশিক্ষণার্থীদের প্রায় শতভাগ উপস্থিতির মাধ্যমে ইভেন্টটির ওয়ার্কশপ রাউন্ডের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। ওয়ার্কশপগুলো থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব উদ্যোগ সম্পর্কিত আইডিয়া তুলে ধরার জন্য ৩০-শে ডিসেম্বর প্রশিক্ষণার্থী উদ্যোক্তাদের নিয়ে হয় পিচিং রাউন্ড। এই রাউন্ডে দলগতভাবে তারা তাদের জ্ঞান, উপস্থাপন দক্ষতা ও আইডিয়ার মাধ্যমে সম্মানিত বিচারকদের রায়ে প্রথম পুরস্কার ১০,০০০ টাকা জিতে নেয় Team Slumdog Broke Gals , দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৮,০০০ টাকা জিতে নেয় Team Last Picks ও ৫,০০০ টাকা জিতে তৃতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় Team Super Moringa Powder। এছাড়াও, ইভেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘তারা’-র পক্ষ থেকে এই রাউন্ডের সেরা নারী উদ্যোক্তাদের দল , টিম গোলাপী জিলাপী বিশেষ পুরস্কার হিসেবে ৫,০০০ জিতে নেয়।
মডারেটর রাফিউদ্দিন স্যারের উপস্থাপনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন , Bangladesh Securities & Exchange Commission ( BSEC) এর চেয়ারম্যান, ড. শিবলী রুবায়েত ইসলাম, SBK Ventures এর প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বাশির কবির এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, হেড অব এসএমই ব্যাংকিং, সৈয়দ আবদুল মোমেন।
ইভেন্ট শেষে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মাহতাব আব্দুল্লাহ মঞ্জুরের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “দেশে যে পরিমাণ শূন্য কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, সেসব পদে তার প্রায় কয়েক গুণ বেশি চাকরি প্রত্যাশী আবেদন করছেন প্রতি বছর। এমতাবস্থায়, উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে, তরুণদের উদ্যোগমূখী হবার বিকল্প নেই। আর সে কথা মাথায় রেখেই ডিইউইডিসি এই আট দিনব্যাপী অনলাইন ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে। উদ্যোক্তাদের তুমুল ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আয়োজক হিসেবে আমরা খুবই আনন্দিত।“ এছাড়া, ভবিষ্যতেও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে “শাট আপ এন্ড স্টার্ট আপ” এর মতো আরো সময়োপযোগী কার্যক্রম আয়োজনের দিকে মনোনিবেশ করবে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অন্ট্রাপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব

0 Comments