করোনা মহামারির প্রকোপে পুরো দেশে যখন লকডাউন ঘোষণা করা হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল দোকান-শপিংমল। এসময় বেশ অলস সময় পার করছিল তরুণ ও কিশোররা। ঠিক এই সময়েই "বগুড়া জিলা স্কুল" পড়ুয়া একদল স্বপ্নবাজ কিশোর স্বপ্ন দেখে নতুন কিছু করার।
লকডাউনের সময়টাতে মানুষ যখন বাহিরে বের হতে পরছিল না, দেখা করতে পারছিল না প্রিয় মানুষদের সাথে; লকডাউনের মাঝেই কেটে গেল মা দিবস - বাবা দিবস সহ আরোও অনেক দিবস; দূরত্বের প্রিয়জনদের জন্মদিন বা অন্যকোন বিশেষ দিনে উপহার দিতে পারছিল না- তখন এই উদ্দ্যোমী তরুণরা প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে বগুড়া শহরে ব্যতিক্রমী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, যার নাম 'গিফটি'।
গিফটি এক প্রকার অনলাইন উপহার কেনার শপ। মজার বিষয় হলো, ভিন্নধর্মী এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সবাই স্কুল-কলেজের ছাত্র। গিফটির কতিপয় বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এখন বগুড়া শহরে সুনাম অর্জন করেছে। তার মধ্যে আছে তাদের প্যাকেজিং সিস্টেম,পোস্টার,ডেলিভারি সিস্টেম। র্যাপিং পেপারের পরিবর্তে অসম্ভব সুন্দর ব্যাগে মুড়িয়ে গিফটের সাথে দেয়া হয়। এছাড়াও তাদের ফেসবুক পেইজে ঢুকলে তাদের পোস্টার, পেজ ডেকরেশন মানুষের নজর কাড়ে। অর্ডার করার ৪৮ঘণ্টার মাঝেই তারা হোম ডেলিভারি দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
এই প্রজন্মের তরূণরা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাতে চায় না। কিছুটা ব্যতিক্রমী ইচ্ছা আর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তীব্র এক আশা বুকে বেঁধে নিয়ে পথচলে তারা। এমনই দুই কিশোর উদ্যোক্তার নাম শাহরিয়ার ও ফাহিম। তাদের দুজনই 'বগুড়া জিলা স্কুল' এর ছাত্র। অন্যান্য বন্ধুরা যখন ফেইসবুক-ইন্সটাগ্রামে আড্ডা ও বিনোদন নিয়ে ব্যস্ত থাকতো; এই দুজন তখন ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনের অফিসিয়াল সাইটে গিয়ে ‘ফোর্বস আন্ডার ৩০’ এ তরুণ উদ্যোক্তাদের গল্প পড়তো।
তারা জানায়, “নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন আমাদেরকে অন্যের কাছে চাকরির জন্য আবেদন না করতে হয়; আমরা নিজেই যেন অন্যদের চাকরি দিতে পারি। আর সে তীব্র ইচ্ছা থেকেই গিফটির জন্ম হয়েছে। ঠিক এই মুহুর্তে গিফটির মাধ্যমে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা আরোও এক্সট্রা কারিকুলার দক্ষতা অর্জন করছে। আমাদের দলে ক্লাস সিক্স পড়ুয়া ছেলেও আছে যে কম্পিউটারে মার্কেটিং এনিমেশন ভিডিও বানানো শিখছে। এটাও এক প্রকারের সেবা, পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেবা। এভাবে প্রতিনিয়ত মানুষের সেবা করে যেতে চাই। ভবিষ্যতে আরোও মানুষের জন্য কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিতে চাই।"
গিফটি’ তে শাহরিয়ার ও ফাহিমের পথচলার সঙ্গী হয়ে কাজ করছেন সিয়াম, মুকিত, স্মরণী, মারুফ, আনিকা সহ আরো অনেকে। এই অগ্রযাত্রায় তাদের সাহস জুগিয়েছেন তাদের সিনিয়র, জুনিয়র, পরিবারের সদস্য সহ শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ।
'গিফটি’ কে একটা সময় বাংলাদেশের অন্যতম একটি কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তরুণদের এই দলটি। আর তাদেরকে উদ্দোক্ত্যা সম্পর্কিত বুদ্ধি, পরামর্শ দিয়ে মেন্টর হিসেবে সাহায্য করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্দ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ রাফিউদ্দিন আহমেদ যিনি “Innokids” স্টার্ট আপের ফাউন্ডার। Innokids থেকে তিনি ১০-১৬ বছ বয়সি বাচ্চাদের/ কিশোরদের নানা স্কিল (soft skills, life skills, tech skills, business skills) শেখানোর মাধ্যমে তরুণদের উদ্দোক্ত্যা হিসেবে তৈরি করছেন ২০১৭ সাল থেকে।
0 Comments