ঢাকা ইউনিভারসিটি এন্ট্রাপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল উদ্যোক্তা সপ্তাহ

 

বিশ্ব এন্ট্রাপ্রেনারশীপ সপ্তাহের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের সেশনটি অনুষ্ঠিত হয় ২২ নভেম্বর রবিবার রাত ৮টায়। এ সেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল- Entrepreneurship ecosystem, its inclusion and diversity in the work place. ঢাকা ইউনিভারসিটি এন্ট্রাপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের মডারেটর ড. রাফিউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।



সেশনটিতে আলোচনা রাখেন ফারহানা ইসলাম, হেড অব ইনোভেশন,জিপি, আসিফ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাক্টিং ডিরেক্টর -EMK centre, আবুল খায়ের মোহাম্মাদ হাফিজুল্লাহ খান, প্রজেক্ট ডিরেক্টর-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাথোরিটি(বিডা). সেশনটি মূলত উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আলোচনায় উঠে আসে কিভাবে সবাই মিলে একত্রে ইকো সিস্টেম তৈরি করতে পারে, বাংলাদেশে একজন উদ্যোক্তা কী কী উপায়ে ফান্ড পেতে পারে এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছে। সেশনটিতে কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে যারা বাংলাদেশে উদ্যোক্তা নিয়ে কাজ করছে। 

সবাইকে ইকোসিস্টেমে কাজ করার জন্য “বাংলাদেশ ঊদ্দোক্ত্যা ভ্যালি” বানানো দরকার

উল্লেখ্য Grameenphone Accelarator, EMK centre, BIDA এ প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত এন্ট্রাপ্রেনারশীপ ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট, ফ্যাসিলিটি, এডুকেশন এসব নিয়ে কাজ করছে। এন্ট্রাপ্রেনারশীপ তার নতুন যুগ শুরু করেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ বেঁচে নিচ্ছে এন্ট্রাপ্রেনারশীপ হিসাবে, এক্ষেত্রে তাদের পরিবারও এখন সাপোর্ট দিচ্ছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এন্ট্রাপ্রেনারশীপের এই নতুন যুগে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা, বিশেষকরে প্রান্তিক জনগণকে। এ বিষয়ে ফারহানা ইসলাম বলেন, " আমরা বর্তমানে তিন হাজার স্টুডেন্টের জন্যে আপ স্কিলিং এর ব্যবস্থা করছি। যে আপ স্কিলগুলি ইন্ডাস্ট্রির সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজন। সেই সাথে এই উদ্যোগ উদ্যোক্তা বা চাকরি প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় soft skills এবং Technical skills দিবে যাতে যে কেউ গ্লোবালি কম্পিট করতে পারে।" 


আলোচনায় স্কুল পর্যায়ে অন্যান্য ক্লাবের সাথে বিজনেস ক্লাবের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেই সাথে এন্ট্রাপ্রেনারশীপের কিছু প্রতিবন্ধকতা উঠে এসেছে যেমন মহিলাদের এন্ট্রাপ্রেনারশীপ হিসাবে ট্রেড লাইসেন্স ও সামাজিক স্বীকৃতি পেতে এখনো সমস্যা, তরুণ ও প্রান্তিক জনগণের জন্য উদ্যোক্তা হওয়া এখনো ততটা সহজ হয়ে উঠে নি। সেশনটিতে উদ্যোক্তা হিসাবে ফান্ডিং পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা উঠে আসে। এক্ষেত্রে আইডিয়া রেডি, প্রুফড ও কাস্টমার ভ্যালু থাকতে হবে। অন্যদিকে আইডিয়া বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত আর্থিক বিশ্লেষণ করতে হবে এবং উদ্যোক্তাকে অবশ্যই সাহসী মনোভাব ও নির্ভরযোগ্য টিম থাকতে হবে। এরপর কথা হয় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে, কেমন হবে ২০৩০এ বাংলাদেশ। 


আসিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন," ভবিষ্যতে ইউনিভারসিটিকে ইনোভেশনে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আরো সহযোগী মূলক আচরণ করতে হবে। লিগ্যাল সিস্টেমস ডেভেলপ করতে হবে।" অন্যদিকে ফারহানা ইসলাম বলেন," ভবিষ্যতে ন্যাচার অব জব এবং এমপ্লয়মেন্ট এ অনেক পরিবর্তন আসবে। টেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বে এর ফলে কর্মীর সরাসরি কাজ কমে যাবে"। সফল উদ্যোক্তা হতে যেমন প্রয়োজন তার কাস্টমার বা মার্কেট নির্বাচন করা তেমনি একজন উদ্যোক্তার প্রয়োজন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা। আর এসব ক্ষেত্রে কাজ করছে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাথোরিটি। 


শেষে উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে উদ্যোক্তা গড়তে "বাংলাদেশ ঊদ্দোক্ত্যা ভ্যালি” প্রস্তাবনা করেন ঢাকা ইউনিভারসিটি এন্ট্রাপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের মডারেটর ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ,যিনি মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি স্কুলের বাচ্চাদের উদ্দোক্ত্যা হিসেবে তৈরির জন্য “ইনোকিডস” নামের একটা স্টার্ট আপের প্রতিষ্ঠাতা। 

 

Post a Comment

0 Comments