তরুণদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ১০ টি সম্ভাবনাময় বৎসরঃ ডঃ রাফিউদ্দিন আহমেদ

 



জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ২রা নভেম্বর গ্রামীণফোনের আয়োজিত  " তারুণ্যের সাথে, সম্ভাবনার পথে” স্লোগান কে সামনে রেখে “আগামির দক্ষতা” পর্বে আলোচনা করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ রাফিউদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় আরো ছিলেন জনাব দুলাল কৃষ্ণ সাহা (নির্বাহী চেয়ারম্যান, এনসডিএ),  ওসামা বিন নূর (সহ প্রতিষ্ঠাতা, ইয়ুথ অপরচুনিটিস) ও সোলায়মান আলম (প্রধান ডিজিটাল ও স্ট্রাটেজি কর্মকর্তা আর এতে  সঞ্চালক হিসাবে ছিলেন ফারহানা ইসলাম , হেড অফ ডিজিটাল ইনোভেশন,গ্রামীনফোন ।

ফারহানা ইসলামের প্রাঞ্জল সঞ্চালনায় বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান তরুণ সমাজ এবং তাদের ভবিষ্যৎ স্কিল, স্কিল গ্যাপ, চাকরীর সুযোগ এবং প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন, এবং অনেকগুলো সুন্দর দিক তুলে ধরেন। যেমন সচিব দুলাল কৃষ্ণ বলেন NSDA থেকে উনারা তরুন দের স্কিল বাড়ানোতে কাজ করছেন, ফ্রিলান্সিং নিয়ে ট্রেনিং দিচ্ছেন। ওসামা বলেন তরুন দেরকে বাংলাদেশ স্কাঊটের মাধ্যমে আরো নানাভাবে কাজে লাগানো যায়। সোলায়মান বলেন গ্রামীনফোন থেকে উনারা কিভাবে দেশের তরুণদের স্কিল গ্যাপ কমানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সকল বক্তারাই এক ব্যাপারে মত দেন যে দেশে আসলে স্কিলড বেইজড গ্রাজুয়েট কম। সবাই অনেক ভাল ভাল রেসাল্ট নিয়ে বসে আছে, কিন্তু তাদের স্কিল শেখার দিকে তেমন নজর নেই বা তারা এই এরিয়াটাকে ইগ্নোর করছে। কিন্তু চাকরিদাতারা এটাকেই এখন বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে্ন।  ঢাকা ইউনিভার্সিটি মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের  এসোসিয়েট প্রফেসর  ডঃ  রাফিউদ্দিন আহমেদ  এখানে  বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন ।



Dr Rafiuddin Ahmed

ডঃ রাফিউদ্দিন বলেন

বাংলাদেশের যুবকরা বেশির ভাগই কর্মজীবনে যায় প্রায় ২৫ বছর বয়সে। এতো বিলম্বে খুব কম দেশেই মানুষ চাকরীর বাজারে প্রবেশ করে। কারন এই দেশে বেশির ভাগ ভাল বেতনের চাকরি মাস্টার্স বা এমবিএ ছাড়া পাওয়া কঠিন। যেহেতু সবাই একি দিকে (চাকরি) ধাবিত হচ্ছে, কাজেই সবাইকে ২৫ বছর পর্যন্ত প্রায় বসেই থাকতে হয়। এতে তারা বিশ্বের আধুনিক অর্থনীতির কাছে পিছিয়ে পড়ছে প্রায় ১০ বছর। তিনি উল্লেখ করেন পশ্চিমা বিশ্বে একজন তরুন মূলত ১৫ বছর বয়স থেকে ম্যাকডোনাল্ডস বা যে কোন চেইন শপের কাজ শুরু করে এবং স্বাবলম্বী হয়। যেখানে বাংলাদেশে একজন ছাত্র তার ২৫ বছর পার হওয়ার পর (গ্রাজুয়েশন) চাকরির খোঁজে। তিনি বলেন এই তরুন বয়সেই (১৫ বছর থেকে) তরুণদের কাজ শুরু করার সবচে উপযুক্ত সময়। দায়িত্ত আর আত্মনির্ভরশীলতা শুরু হবার জন্য ১৫-১৬ বছর খুব ভালো সময় বলেন তিনি। 

যেহেতু আমাদের দেশে কাজ শুরু করার গড় বয়স প্রায় ২৫, সেহেতু একটি জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দশটি বছর এবং দেশের অর্থনীতিতে অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে এই জনশক্তি। তিনি তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হবার জন্য কিছু টিপস দেন। যেমন তারা পড়াশুনার পাশাপাশি চাইলে উদ্দোক্ত্যা হতে পারে বা কিছু স্কিল নিয়ে আয়ের পথ বের করতে পারে ছাত্র বয়সেই। তিনি তার পিএইছডি প্রজেক্টের ফলাফল হিসেবে Innokids নিয়েও বলেন যেখানে তিনি স্কুল ছাত্রদের (৮ থেকে ১৬ বছর বয়সের) উদ্দোক্ত্যা হবার প্রশিক্ষন হিসেবে লাইফ স্কিল, সফট স্কিল, টেক স্কিল এবং বেসিক বিজনেস স্কিল্ শিখাচ্ছেন যেটা Australia র Melbourne এ এখনো চালু আছে। 

আগামির দক্ষতার জন্য প্রস্তুত হতে তিনি দেশের বর্তমান তরুণ সমাজকে সফট স্কিল ডিজিটাল  স্কিল, লাইফ স্কিল, উদ্দোক্ত্যা শিক্ষা  গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন । ডঃ রাফিউদ্দিন আহমেদ দেশকে একটি নলেজ বেইজ ইকোনমি থেকে স্কিল বেইজ ইকোনোমিতে ধাবিত হওয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন আমাদের দেশে মাত্র ৪-৬%  মানুষের একাধিক দক্ষতা আছে যেখানে ইংল্যান্ড এ ৪২% আর জার্মানিতে আছে প্রায় ৮০%। কাজেই আগামি ১০ বছরে যদি এই সঙ্খ্যাকে ২৫-৩০% এ নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে দেশে বেকার খুজে পাওয়া যাবেনা বলে তিনি মত দেন। আর এর জন্য সবার মধ্যে একাধিক দক্ষতা অর্জনের আগ্রহ তৈরি করা খুব প্রয়োজন।  

বর্তমান চাকরীর বাজার সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, চাকরি দাতারা শুধু মাত্র ফলাফলের ভিত্তিতে আর নিয়োগ না দিয়ে চাকরি প্রার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিটিভি দেখে নিয়োগ দিবেন/দিচ্ছেন। কাজেই ছাত্রদের এই বিষয়ে জোর নজর দিতে বলেন।  তিনি  তরুণদের  একটি নির্দিষ্ট পড়াশোনার বাইরে সাইবার সিকুরিটি, ডাটা আনালিটিক্স, ডিজিটাল উদ্দক্ত্যা, অগ্মেন্টেড রিয়ালিটি, ভারচুয়াল রিয়ালিটি, ব্লকচেইন, রোবটিক্স বিষয়ে নির্দিষ্ট  কারিগরি বা টেকনিকাল  জ্ঞান অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন। এতে ছাত্ররা দেশে এবং দেশের বাইরে কাজের সুযোগ পাবে।
একাডেমিক নলেজ নিয়ে দেশেই কাজ করতে হয় কিন্তু কেউ ডিজিটালি স্কিল হলে বাসায় বসেই সারা দুনিয়াতে কাজ করতে পারবে ভার্চুয়ালি। তিনি প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিলান্সারদের কথা বলেন যারা স্কিল থাকার কারনে প্রায় ৫০০ থেকে ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত মাসে আয় করে। 

কাজেই সবাই স্কিল শিখুন আর নিজেই নিজের আয়ের পথ খুজে বের করার উপর তিনি জোর তাগিদ দেন। 


 





Post a Comment

0 Comments